পুরশুড়ায় মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, একাধিক এলাকা পরিদর্শনে বিধায়ক বিমান ঘোষ

Published on: September 3, 2026

মুন্ডেশ্বরীর বাঁধে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, পুরশুড়ার একাধিক এলাকা পরিদর্শনে বিধায়ক বিমান ঘোষ

পুরশুড়া: মুন্ডেশ্বরী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং নদীর বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে পুরশুড়া বিধানসভা এলাকায়। পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পুরশুড়া বিধানসভার একাধিক এলাকা ও মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ পরিদর্শন করলেন বিধায়ক বিমান ঘোষ। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি নদীবাঁধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি বন্যায় প্লাবিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

এদিনের পরিদর্শনে বিধায়কের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরাও ছিলেন। মুন্ডেশ্বরী নদীর জলস্তর, বাঁধের বর্তমান অবস্থা এবং নদীর জল ঢুকে পড়ায় এলাকার মানুষের কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করেন বিমান ঘোষ।

প্রথমে শ্রীরামপুর বাউড়ি পাড়া এলাকায় পৌঁছে মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ পরিদর্শন করেন পুরশুড়ার বিধায়ক। নদীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাঁধের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেন তিনি। বর্ষার সময় নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও খোঁজ নেন বিধায়ক।

এরপর হরিণখোলা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোলতাজপুর এলাকায় যান বিমান ঘোষ। সেখানে মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্যায় প্লাবিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। জলবন্দি মানুষের কাছ থেকে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি নদীবাঁধের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন বিধায়ক। বন্যার কারণে কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বসতবাড়ি কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়।

ঘোলতাজপুরের পর হরিণখোলা-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামগ্রাম এলাকায় পৌঁছন বিমান ঘোষ। সেখানেও মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ পরিদর্শন করেন তিনি। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং বাঁধের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক।

এরপর হরিণখোলা-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেষ্টপুর এলাকায় যান তিনি। কেষ্টপুরেও মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন বিমান ঘোষ। বন্যা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি।

মুন্ডেশ্বরী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং নদীর বাঁধ ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে পুরশুড়া বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদীবাঁধের কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। সেই কারণে বাঁধের উপর নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে বিধায়কের এই সরেজমিন পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। কারণ, প্রশাসনিক স্তরে পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট পৌঁছনোর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধির সরাসরি এলাকা পরিদর্শনের ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়।

এদিন বন্যায় প্লাবিত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ। তিনি জানান, এই কঠিন পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন তিনি। মানুষের সমস্যা ও নদীবাঁধের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানান বিধায়ক।

বন্যা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীবাঁধের নিরাপত্তা। মুন্ডেশ্বরী নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাই নদীর জলস্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বাঁধের দুর্বল অংশ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

একই সঙ্গে প্লাবিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলবন্দি পরিবারগুলির খাদ্য, পানীয় জল, চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়ার দাবি রয়েছে।

পুরশুড়ার শ্রীরামপুর বাউড়ি পাড়া থেকে শুরু করে ঘোলতাজপুর, শ্যামগ্রাম ও কেষ্টপুর—মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ সংলগ্ন একাধিক এলাকা এদিন পরিদর্শন করেন বিধায়ক বিমান ঘোষ। তাঁর এই পরিদর্শনে একদিকে যেমন নদীবাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, অন্যদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যাগুলিও সরাসরি শোনা হয়েছে।

এখন নজর মুন্ডেশ্বরী নদীর জলস্তরের দিকে। জলস্তর বাড়তে থাকলে পুরশুড়ার আরও কোনও এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয় কি না, নদীবাঁধের পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার মানুষ।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং নদীবাঁধ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভিড় না করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

পুরশুড়ায় মুন্ডেশ্বরী নদীর বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বন্যার প্রভাব নিয়ে আগামী দিনগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে সংবাদমাধ্যম।

ভ্রমণ দিশারী ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস্

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now